ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের ‘রহস্য উদঘাটনের’ দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে মঙ্গলবার (২৭ মে) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যার সুনির্দিষ্ট মোটিভ বা উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে পারেনি সংস্থা।

বিকেল ৫টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাম্য হত্যায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে ৮ জন এবং থানা পুলিশের হাতে ৩ জন।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে নাহিদ হাসান ও রিপন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রাব্বি ও মেহেদী হাসানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। ডিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচগিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নে হত্যার পেছনে কারণ বা ‘মোটিভ’ জানতে চাইলে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মো. নাসিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে যাওয়া’ বলে মনে হচ্ছে। তার ভাষায়, “ট্রেজার গান দেখে সাম্য কৌতূহল প্রকাশ করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।” হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক চক্রের ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

তবে পুরো তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত মোটিভ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন ডিএমপি কমিশনার।

এ ঘটনায় নিহত সাম্যের বড় ভাই সর্দার আমিনুল ইসলাম পুলিশের ওপর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু পুলিশের তদন্তে হতাশ। কী কারণে আমার ভাইকে হত্যা করা হলো, সেটাই জানা গেল না।”

প্রসঙ্গত, ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে আহত হন ছাত্রদল নেতা সাম্য। ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর রাতেই তার মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *