ছবি: সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা মধ্যবিত্ত আশা করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সেই আশায় এবারও গুড়েবালি। অর্থ উপদেষ্টা কর কাঠামোয় ‘রূপক’ পরিবর্তনের বদলে হাঁটলেন পুরোনো পথে—রাজস্ব বাড়াতে করহার পরিবর্তন, ছাড় বিত্তশালীদের জন্য, চাপ সাধারণের কাঁধে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকাতেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য অবশ্য সীমা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে—২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে তা হবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তবে পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হয়েছে, যা সরাসরি মধ্যবিত্তের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

নতুন কর স্ল্যাব অনুযায়ী, যার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, তার কর বেড়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা—আগের তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার টাকা বেশি। এছাড়া শহর ও গ্রামে সকল করদাতার জন্য ন্যূনতম কর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা।

প্রথমবার রিটার্ন জমাদানকারীদের জন্য সুখবর আছে। আয় ভেদে তাদের জন্য ১ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারিত হার প্রযোজ্য হবে। কর ফোবিয়া কমাতে এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন অর্থ বিশেষজ্ঞরা।

নতুন ভ্যাট কাঠামোতে মধ্যবিত্তের খরচ আরও বাড়বে। ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়েছে রেফ্রিজারেটর, এসি, মোবাইল ফোন, হাইজেনিক সামগ্রী, প্লাস্টিকের বাসন, শেভিং ব্লেড ইত্যাদি পণ্যে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে নিশ্চিতভাবেই।

নির্মাণ সামগ্রীতেও পড়েছে শুল্ক ও সুনির্দিষ্ট কর বৃদ্ধির ছায়া। স্ক্র্যাপের কর, বিলেট-ইনগট, ফেরো ম্যাঙ্গানিজ—সবকিছুতেই শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব, যা রড ও নির্মাণ ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে। বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন আরও দূরে সরবে মধ্যবিত্তের কাছ থেকে।

নারী ও শিশুদের প্রিয় চকলেট, কসমেটিকস ও খেলনার ওপর শুল্ক বেড়েছে। বিদেশি চকলেট আমদানিতে শুল্কায়নের ন্যূনতম মূল্য দ্বিগুণ হয়েছে, কসমেটিকসের দাম বাড়বে আমদানি মূল্য দ্বিগুণ করায়। এতে নারী ও শিশুর জন্য বাজেট হয়ে উঠেছে একরকম ‘রুষ্ট’।

অন্যদিকে বিত্তশালীদের জন্য রয়েছে সারচার্জে ছাড় এবং পরিবেশবান্ধব গাড়িতে সারচার্জ প্রত্যাহার। অর্থাৎ যারা বেশি আয় করেন, তাদের কর ভার তুলনামূলক কমানো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাজেট মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জীবনযাত্রায় কোনো সহনীয় পথ খোলেনি। বরং ভ্যাট ও কর বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে যাদের কর দেয়ার সামর্থ্য বেশি, তাদের জন্য সুবিধা রেখে বৈষম্যমূলক নীতিই বজায় রেখেছে বাজেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *