পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চেয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি এই আহ্বান জানান।

বুধবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, ট্রাম্প শান্তিপ্রবণ ও সংলাপমুখী একজন রাজনীতিক। সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কাশ্মীরের পেহেলগামে সংঘটিত চার দিনের সংঘর্ষ ভারতীয় ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। এ ঘটনায় ৩৩ জন পাকিস্তানি নিহত হয়েছে এবং পাকিস্তান আত্মরক্ষায় ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলেও জানান তিনি।

শেহবাজ বলেন, পাকিস্তান বরাবরই সংযম দেখিয়ে এসেছে, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তিনি মার্কিন জনগণ ও প্রেসিডেন্টের প্রতি স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরায় দৃঢ় হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র সফররত অবস্থায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি বলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব ট্রাম্পের প্রাপ্য। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্প বহুবার এই শান্তি প্রচেষ্টার কথা বলেছেন, এবং সেই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বিলাওয়াল জানান, পারমাণবিক উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সংলাপ আয়োজনের মাধ্যমে কার্যকর অবদান রাখতে পারে। তিনি ভারতের ভূমিকাকে কটাক্ষ করে বলেন, নয়াদিল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চীনের প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের ভূমিকাকেও তিনি ‘ওজনহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতকে ‘নেট সিকিউরিটি প্রোভাইডার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে তিনি অকার্যকর বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আঞ্চলিক শান্তি নিশ্চিত করতে হলে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করা জরুরি।

এর আগে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারত চাইলে পাকিস্তান সংলাপে বসতে প্রস্তুত, তবে পাকিস্তান এতে মরিয়া নয়। ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য—বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘এই তো ট্রেলার’ মন্তব্য—উসকানিমূলক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসহাক দার জানান, ভবিষ্যতের যেকোনো সংলাপ হতে হবে বিস্তৃত, যাতে সন্ত্রাসবাদ, জলবণ্টন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাঁর ভাষায়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিই পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য, তবে সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে আপসের সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *