ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা কামরুল ইসলাম। পুলিশ জানিয়েছে, আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পড়ে যাওয়ার সময় তাঁর মাথার পেছনের অংশ কেটে যায় এবং রক্ত ঝরতে থাকে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার তারেক জুবায়ের জানান, “অসাবধানতাবশত বাথরুমে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।”

প্রত্যক্ষদর্শী হাজতখানার কর্মকর্তারা জানান, বেলা ৯টার দিকে দুর্নীতির মামলার শুনানির জন্য কামরুল ইসলামকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। তাঁকে একটি কাঠের চেয়ারে বসানো হয়। সকাল সাড়ে ১০টার পর তিনি ওই চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে পড়েন। প্রায় ২০ মিনিট পর বাথরুমে যান এবং সেখানেই পড়ে যান।

হাজতখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি শেখ কামাল বলেন, “পড়ে গিয়ে মাথার পেছনে কেটে গিয়েছিল, যেখান থেকে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়ছিল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে টেনে তোলা হয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

কামরুল ইসলামের ছেলে, যিনি চিকিৎসক, আদালতে ছুটে আসেন এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁর মাথায় ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়। পরে তাঁকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে পুনরায় কেরানীগঞ্জ কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

কেরানীগঞ্জ কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার জানান, “বয়সজনিত কারণে কামরুল ইসলামের শারীরিক জটিলতা আছে। ডায়াবেটিসও রয়েছে। তিনি এখন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং শারীরিকভাবে স্থিতিশীল।”

ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার মাঈন উদ্দিন চৌধুরী জানান, চিকিৎসকরা তাঁর রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষা করেছেন। রক্তচাপ কিছুটা বেশি ছিল, তবে সুগারের মাত্রা ছিল নিয়ন্ত্রণে।

কামরুল ইসলামের আইনজীবী আসমা ইসলাম বলেন, তাঁর পাকস্থলীতে ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং কারাগারে থাকার পর থেকে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আজ আদালতে বাথরুমে হঠাৎ পড়ে গিয়ে তাঁর মাথা থেকে রক্ত ঝরে পড়ছিল। শার্টও ভিজে গিয়েছিল রক্তে।”

গত বছরের ৮ নভেম্বর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর কামরুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে কয়েকবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। লাঠির ভর দিয়ে হাঁটা এই প্রবীণ রাজনীতিকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে একাধিকবার অবহিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *