সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে আগামীকাল রোববার (১ জুন)। চাইলে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে বিটিভির মাধ্যমে সরাসরি কোর্ট প্রসিডিংস সম্প্রচার করা হতে পারে।

শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তিনি বলেন, “আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার সময় বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।”

এর আগে, ১২ মে ‘জুলাই-আগস্ট গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’–এর ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে জুলাই গণহত্যার মূল নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনাকে চিহ্নিত করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনাসহ তিনজনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে তিনি মূলত “সুপিরিয়র কমান্ডার, প্ররোচনাদাতা ও নির্দেশদাতা” হিসেবে দায়ী।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের “রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতিপুতি” বলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংসতায় প্ররোচনা তৈরি হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, টেলিফোনে সরাসরি নির্দেশনা দিয়ে তিনি সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীকে হেলিকপ্টার, ড্রোন, এপিসিসহ মরণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের নির্মূল করতে বলেন।

বাকি তিনটি অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে নির্দেশনামূলক ভিত্তিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ ও নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

তাজুল ইসলাম আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে—জুলাই-আগস্টে প্রায় ১,৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, ২৫,০০০-এর বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন, নারীদের ওপর বিশেষ সহিংসতা চালানো হয়েছে এবং লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। আহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, এমনকি চিকিৎসা না দেওয়ার নির্দেশনাও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর বলেন, “শেখ হাসিনা নিজে হাসপাতালে গিয়ে বলেন যেন ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা না দেওয়া হয়। এমনকি যারা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে চলে যেতে চাইছিল, তাদেরও আটকে রাখা হয়।”

এছাড়া, সরকারি স্থাপনায় আগুন দিয়ে দায় আন্দোলকারীদের ওপর চাপানোর পরিকল্পনার অভিযোগও রয়েছে প্রতিবেদনে।

আগামীকাল ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত চার্জ দাখিল ও আমল গ্রহণের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুমতি পেলে এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সরাসরি সম্প্রচার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *