মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া মুদ্রানীতিগত পদক্ষেপ ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি জুন মাসেই পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশে নেমে আসবে।

আজ সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “গত বছরের আগস্টে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। সেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিকভাবে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে নীতিসূদের হার ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে বর্তমানে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।”

সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পাশাপাশি রাজস্বনীতিও কঠোর করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস করায় সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। তা কমে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ৯ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এবারের রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাকার বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা জরুরি। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি স্থিতিশীল থাকায় এপ্রিল মাসে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।”

এই প্রেক্ষাপটে সরকার ১৪ মে থেকে বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হার চালু করেছে বলে জানান তিনি।

তবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে এই লড়াইয়ের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অর্থ উপদেষ্টার ভাষায়, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম হতে পারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *