ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই হামলাকে একটি “ব্যতিক্রমধর্মী সামরিক সাফল্য” আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন, ইরান শান্তি না চাইলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে হামলা চালানো হবে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১০টায় হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমের প্রবেশদ্বার ‘ক্রস হল’ থেকে দেওয়া এ ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। এই স্থান থেকেই এক সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওসামা বিন লাদেন হত্যার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আজ রাতে, আমি বিশ্ববাসীকে জানাতে পারি—ইরানে এই হামলা ছিল অসাধারণ সামরিক সাফল্য। আমাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা ধ্বংস করা এবং বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাস-সহযোগী রাষ্ট্রের পারমাণবিক হুমকি ঠেকানো।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরান এখনই শান্তির পথ বেছে নিক। না হলে, আগামী দিনগুলো আরও ভয়াবহ হতে পারে। অনেক টার্গেট এখনো বাকি রয়েছে। আজ রাতের লক্ষ্যবস্তু ছিল সবচেয়ে জটিল ও বিধ্বংসী। কিন্তু যদি শান্তি না আসে, আমরা প্রস্তুত—আরও নিখুঁত পরিকল্পনা, গতি ও দক্ষতা নিয়ে হামলা চালাতে।”

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশাল’-এ একটি পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান—এই তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। এই হামলা ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশের পরপরই ঘটে।

ভাষণের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তাদের উপস্থিতি এই হামলার গুরুত্ব এবং প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় তুলে ধরে।

ট্রাম্প বলেন, “গত আট দিনে যা ঘটেছে, তা যদি থামানো না যায়, তাহলে সামনে আরও বিপর্যয় আসবে। শান্তি অথবা ট্র্যাজেডি—ইরানকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

সূত্র: বিবিসি, আল–জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *