ছবি: সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের বিভিন্ন কলেজে পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিয়ে প্রবেশ করবেন পরীক্ষাকেন্দ্রে, কিন্তু সেই সাথেই একান্ত শূন্যতা মিশে আছে। কারণ, পরীক্ষার চেয়ারে বসার কথা ছিল ছয় তরুণের, যারা গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে অনুষ্ঠিত আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

আবদুল্লাহ বিন জাহিদ, মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া (ফারহান ফাইয়াজ), শাফিক উদ্দিন আহমেদ আহনাফ, আফিকুল ইসলাম সাদ, মারুফ হোসেন এবং মো. আব্দুল আহাদ সৈকত—এই ছয়জনের কারোই আজকের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি। তাদের চলে যাওয়ায় বন্ধুরা কাঁদে, স্মৃতিগুলো জীবন্ত থাকে।

ছয় বন্ধুর বন্ধুত্ব ছোটবেলা থেকে গভীর ছিল। একই এলাকার বাসিন্দা তারা, যদিও আলাদা কলেজে পড়াশোনা করতেন। একসঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু আজ কেউ নেই তাদের মধ্যে।

আবদুল্লাহর মা ফাতেমা তুজ জোহরা বললেন, ছেলে শহীদ হওয়ার পর পরিবারের ওপর ভারী দুঃসহ্য বয়ে গেছে। তিনি আবদুল্লাহর বন্ধুদের ফোন থেকে যেন তার ছেলের সান্তনা পান।

ফারহান ফাইয়াজ ছিলেন গবেষক হওয়ার স্বপ্নদর্শী ছাত্র, যিনি আন্দোলনে নিহত হন। তার বাবা জানালেন, ফারহান বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে গবেষণা করতে চেয়েছিল।

শাফিক আহনাফ, গানপ্রিয় ও স্কাউট সদস্য, নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ স্কাউটস থেকে ‘গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। তার বাবা জানান, আজকের পরীক্ষার সময় বুকটা বেশি খালি লাগে।

মারুফ হোসেন ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকে নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ ২০১৮ সালের আন্দোলনে তার গ্রেপ্তারের ঘটনা ছিল। গত বছর আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তিনি।

মো. আব্দুল আহাদ সৈকত ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু ৫ আগস্ট বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

আফিকুল ইসলাম সাদ ফ্রিল্যান্সার ও গ্রাফিক ডিজাইনার ছিলেন, যিনি মৃত্যুর আগের দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন দেশের ইতিহাস রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে, আবার রক্ত দিয়েই ইতিহাস লেখা লাগবে।

আজকের এই পরীক্ষার দিনটি কারো জন্য নতুন আশা, কারো জন্য শোকের দিন। কেউ পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছে, কেউ সন্তানের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ছয় বন্ধুর অনুপস্থিতি শূন্যতা নয়, বরং অশ্রু, বিশ্বাস আর বীরত্বের গল্পে পূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *