সারাদেশে ভোটারদের জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পক্ষপাতদুষ্ট বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুমোদন দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার সকালে কানাডিয়ান হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করলে এসব তথ্য জানান তিনি। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং।

সিইসি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতিমূলক কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনায় বসেন তাঁরা। কানাডা জানতে চেয়েছে, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিশনের প্রস্তুতি কতটুকু এগিয়েছে এবং কোথায় সহায়তা প্রয়োজন। জবাবে সিইসি বলেন, ভোটারদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষক ও এজেন্টদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে কানাডা।

তিনি আরও বলেন, কানাডা চাইছে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। তারা নারী ভোটার নিবন্ধন ও পার্বত্য অঞ্চলে ভোটার সচেতনতা কার্যক্রম নিয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছে। এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং কানাডার কাছ থেকে অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

ভোটের সময়সীমা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি। ভোটের তারিখ নির্ধারিত হলে নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং নীতিমালাও প্রায় চূড়ান্ত। তবে যেসব পর্যবেক্ষক অতীতের নির্বাচনগুলোকে প্রশংসা করে সার্টিফিকেট দিয়েছে, পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, তাদের অনুমোদন দেওয়া হবে না। অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সংস্থাগুলোকেই আমন্ত্রণ জানানো হবে।

বৈঠক শেষে কানাডার হাইকমিশনার ইসির প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *