তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিধান রেখে সংবিধানের যে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিল, তা বাতিল করে হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেটির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ হয়।

২০১১ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। সংশোধনীতে সংবিধানের ৫৪টি অনুচ্ছেদে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়। হাই কোর্টের রায়ে সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা, এবং সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যায়িত করে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

রায়ে আদালত মন্তব্য করে, গণতন্ত্র বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর একটি অংশ এবং সেটি সঠিকভাবে বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতি আস্থা তৈরি হয়নি। আদালত আরও বলেন, এই অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতির ফলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ সংঘটিত হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং সময়ের সাথে সেটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়। ফলে এই ব্যবস্থাকে বিলোপ করা সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী।

গত বছরের ১৮ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি হাই কোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানিতে হাই কোর্ট ১৯ আগস্ট রুল জারি করে জানতে চায়, কেন পঞ্চদশ সংশোধনী আইনকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না। পরে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৭ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *