রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামির আঘাতে কেঁপে উঠেছে জাপান। দেশটির উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইডোর হানাসাকি বন্দরে প্রথম সুনামি আছড়ে পড়ে। এতে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ১৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে এনএইচকে ওয়ার্ল্ড জাপান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হোক্কাইডোর পাশাপাশি ইওয়াতে, মিয়াগি, তোকাচি, এবং এরিমো শহরসহ জাপানের আরও কয়েকটি অঞ্চলে সুনামি আঘাত হেনেছে। ইওয়াতে কুজি বন্দরে ৬০ সেন্টিমিটার, মিয়াগির ইশিনোমাকি বন্দরে ৫০ সেন্টিমিটার এবং তোকাচি বন্দরে ৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। হোক্কাইডোর দক্ষিণ-পূর্ব অংশের এরিমো শহরে ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে হামানাকা শহরে এবং ১০টা ৪২ মিনিটে পূর্ব হোক্কাইডোর কুশিরো বন্দরে ঢেউ আঘাত হানে। এরপর সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে তোকাচি বন্দরে সুনামি অনুভূত হয়। তোহোকু এবং কান্তো অঞ্চলেও সুনামির খবর মিলেছে, যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, সুনামির ঢেউ একাধিকবার আসতে পারে এবং পরবর্তী ঢেউ প্রথমটির তুলনায় আরও শক্তিশালী হতে পারে। তাই উপকূলবাসীদের নিরাপদে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে আজ বুধবার রাশিয়ার কামচাটকার উপকূলবর্তী অঞ্চলে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মাত্র ১৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার গভীরে, যা অগভীর ভূকম্পন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সাধারণত বেশি ক্ষতি করে।
ভূমিকম্পের কারণে জাপানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে রাশিয়ার আঞ্চলিক প্রশাসন। তবে রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

