যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর বিমান হামলা চালানোর পর এবার তেহরান সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইসরায়েলের দিকে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েল সরকার জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং হুমকি প্রতিরোধে কার্যকরভাবে কাজ করছে। জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে এবং নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এই প্রথমবার সরাসরি ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান। এই ঘটনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ফল। তাঁর ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমার পূর্ণ সমন্বয়ে এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর সমন্বিত চেষ্টায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় এই সফল হামলা পরিচালিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসরায়েলের কৌশল আরও জোরদার হয়েছে।” নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল ইসরায়েলের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য হুমকি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ইসরায়েলের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। বৈঠকটি শুরু হয় রাত ১০টায় এবং শেষ হয় ভোর ৩টায়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শেষ হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা রন ডারমার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর, সেনাপ্রধান, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ। এই কর্মকর্তাদের অনেকেই ইসরায়েলের কট্টর-ডানপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেন।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল, তাই হামলা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তবে ইরান বারবার দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, এবং তারা জ্বালানি উৎপাদন ও গবেষণার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়।

তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলের আকাশসীমা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে মিসর ও জর্ডানের সঙ্গে স্থলসীমান্তের ক্রসিং পয়েন্টগুলো স্বাভাবিকভাবেই খোলা রয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *