ইসরায়েল-গাজা সীমান্ত থেকে দেখা যাচ্ছে বিস্ফোরণের পর উত্তর গাজা থেকে ধোঁয়া উঠছে। ছবি: রয়টার্স/আমির কোহেন

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় একজন সাংবাদিক ও একজন জ্যেষ্ঠ উদ্ধারকর্মীসহ কমপক্ষে ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। রোববার ( ২৫ মে) স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইসরায়েল-গাজা সীমান্ত থেকে দেখা যাচ্ছে বিস্ফোরণের পর উত্তর গাজা থেকে ধোঁয়া উঠছে। ছবি: রয়টার্স/আমির কোহেন

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণের খান ইউনিস, উত্তরের জাবালিয়া ও মধ্য গাজার নুসাইরাতে পৃথক ইসরায়েলি বিমান হামলায় এসব প্রাণহানি ঘটে।

জাবালিয়ায় সাংবাদিক হাসান মজদি আবু ওয়ার্দা ও তার কয়েকজন স্বজন রোববার সকালে তাদের বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছে। নুসাইরাতে আরেকটি হামলায় গাজার জরুরি সেবাবিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশরাফ আবু নার ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।

হামাস পরিচালিত গাজা সরকারের জনসংযোগ কার্যালয় জানিয়েছে, সাংবাদিক আবু ওয়ার্দার মৃত্যুর মাধ্যমে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ জনে।

অন্য এক বিবৃতিতে কার্যলয়টি দাবি করেছে, বর্তমানে গাজা উপত্যকার ৭৭ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে—সরাসরি সেনা মোতায়েন, বাসিন্দাদের উচ্ছেদ আদেশ এবং টানা বোমা হামলার মাধ্যমে অঞ্চলগুলোকে জনশূন্য করে ফেলা হয়েছে।

রোববার হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সামরিক শাখা পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের যোদ্ধারা বোমা ও অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একাধিক হামলা ও অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শুক্রবার জানায়, রাতে গাজাজুড়ে আরও ৭৫টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে অস্ত্র গুদাম ও রকেট লঞ্চার স্থাপনাও রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল সীমান্তে হামলার পর গাজায় বিমান ও স্থল অভিযানে নামে ইসরায়েল। ওই হামলায় ইসরায়েলের হিসাবে ১,২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৩,৯০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো উপত্যকা। ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, গাজায় চরম অপুষ্টির লক্ষণ এখন ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *