ইউক্রেনে আকাশপথে রাশিয়ার সর্ববৃহৎ হামলার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উদ্দেশ করে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার রাতে নিউ জার্সিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমি তাকে বহুদিন ধরে চিনি, আমাদের সম্পর্ক ভালো ছিল, কিন্তু এখন তিনি যেভাবে শহরগুলোতে রকেট পাঠিয়ে মানুষ হত্যা করছেন, তা আমি একদমই সমর্থন করি না।”

পুতিনকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি এখন শুধু ইউক্রেইনের একটি অংশ নয়, পুরো দেশটাই চান। আর যদি তিনি তা করার চেষ্টা করেন, সেটাই হবে রাশিয়ার পতনের সূচনা।”

এদিকে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের অবস্থানকে ‘নীরবতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের নিরুত্তর মনোভাবই পুতিনকে আরও আগ্রাসী করে তুলছে। তিনি কিয়েভের ওপর চাপ কমাতে মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান।

শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত রাশিয়ার ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেইনের অন্তত ১২ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই ছোড়া ৩৬৭টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র এই সংঘাতের ইতিহাসে রাশিয়ার সর্ববৃহৎ আকাশ হামলা।

সোমবার রাতেও ইউক্রেইনের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। খারকিভে একটি রুশ হামলায় এক শিশুসহ অন্তত তিনজন আহত হয় বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র। দক্ষিণের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলেও হামলায় দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন, রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজধানীর দিকে আসা দুটি ইউক্রেইনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

রোববার ট্রাম্প বলেন, পুতিনের এমন কর্মকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের উচিত রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করা। যদিও অতীতে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

পরবর্তীতে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ পোস্ট দিয়ে ফের পুতিনকে ‘পাগল’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে রাশিয়া নিজেই ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।”

তবে কেবল পুতিন নয়, ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকেও সমালোচনার মুখে ফেলেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, “জেলেনস্কির কথাবার্তাই সমস্যা তৈরি করছে। এখনই তার এই আচরণ বন্ধ হওয়া দরকার।”

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে দাবি করা হলেও, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বরং ট্রাম্প-পুতিনের মধ্যে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

এ আলোচনার পর ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা ছিল তিন বছরের মধ্যে প্রথম। সেখানে যুদ্ধবন্দি বিনিময় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেল জানিয়েছে, ইউক্রেইনে আরও বড় ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। বর্তমানে ইউক্রেইনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রাইমিয়া উপদ্বীপও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *