রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে চিকিৎসাসেবা। গত ২৫ মে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত চারজন রোগীর বিষপানের ঘটনায় উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর গত বুধবার আন্দোলনকারী রোগী, কর্মচারী ও স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে হাসপাতালটি।

শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনেও বন্ধ ছিল জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডের চিকিৎসা। ফলে বিপাকে পড়েছেন ভর্তি রোগীরা। অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন, আবার কেউ কেউ চিকিৎসার মাঝপথে আটকে পড়ায় অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

ছয় মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনে আহত কোরবান হোসাইন বলেন, “ডান চোখ আগেই হারিয়েছি, এখন বাঁ চোখ ঝুঁকিতে। তিন দিন ধরে কোনো চিকিৎসা, ওষুধ বা খাবার পাচ্ছি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আমাদের চিকিৎসা আর হবে না।”

জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী গাউসুল আজম বৃহস্পতিবার ঢাকায় এসে দেখেন, হাসপাতাল কার্যত বন্ধ। “বেসরকারি হাসপাতালে খরচ বহন করা সম্ভব নয়, সরকারি হাসপাতালে না পেলে কোথায় যাব?”,বলেন তিনি।

চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জের কাউসার আহাম্মেদও। কিছুদিন আগে চোখের অপারেশন করান তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার ভর্তি হওয়ার পর বুধবার থেকে আর চিকিৎসা পাননি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ৫৫ জন আহত জুলাই যোদ্ধা সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে হাসপাতালের পরিবেশে নতুন রোগী প্রবেশের সুযোগ নেই।

জুলাই যোদ্ধা ও হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে মতবিরোধও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। কেউ বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানাচ্ছেন, কেউ পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের।

এই সংকট নিরসনে শুক্রবার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আহতদের একজন, রোহান আহমেদ বলেন, “সব ধরনের সেবা বন্ধ। খাবার ও ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।”

বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে জুলাই যোদ্ধাদের একটি অংশকে অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জানে আলম বলেন, “হাসপাতাল এখন বন্ধ। চিকিৎসক ও কর্মচারীরা প্রবেশ করতে পারছেন না। চিকিৎসা কবে শুরু হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”

পুলিশ ও আনসার সদস্যরা জানান, সংঘর্ষের পর আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক মঈনুল আহসান বলেন, “চিকিৎসা কবে চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়।”

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, “আহতদের বিদেশে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবির বিষয়ে একটি তালিকা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু একেকজনের দাবি একেক রকম হওয়ায় কাজটি সহজ নয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *