ছবি: সংগৃহীত

সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের গুলশানের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর চার নেতাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া অভিযুক্তরা হলেন, সংগঠনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ, ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম এবং সাদমান সাদাব। সংগঠনটি ইতোমধ্যে তাদের বহিষ্কার করেছে।

এই মামলায় আইনগত সংঘাতে জড়িত এক কিশোর মো. আমিনুল ইসলামকে আটক রাখার আবেদনও জানানো হয়। শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান অভিযুক্তদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আক্তার হোসেন ভূইয়া রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘চাঁদাবাজির পক্ষে কেউ থাকতে পারে না। তবে আসামিরা ওই বাসায় যাওয়ার আগে থানায় ফোন দিয়েছিল। আমরা একটি চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ চাই।’

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার ছাত্রনেতার জামিন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে পুলিশি প্রহরায় তাদের আদালত থেকে বের করা হয়। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ভুক্তভোগী সিদ্দিক আবু জাফর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত হিসেবে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়—আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ, কাজী গৌরব অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, মো. ইব্রাহিম হোসেন এবং কিশোর আমিনুল ইসলাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৭ জুলাই সকাল ১০টায় আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ ও কাজী গৌরব অপু গুলশান ৮৩ নম্বর রোডে সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেন। দাবি মেনে না নেওয়ায় গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে বাদী সিদ্দিক আবু জাফর পাঁচ লাখ টাকা নিজের কাছ থেকে এবং আরও পাঁচ লাখ টাকা ভাইয়ের কাছ থেকে জোগাড় করে তাদের দেন।

পরবর্তীতে ১৯ জুলাই এবং ২৬ জুলাই পুনরায় বাসায় গিয়ে বাকি অর্থ দাবি করলে বাদী গুলশান থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। আসামি কাজী গৌরব অপু পালিয়ে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *